বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : বিশ্বনাথে সরকারি ভুমি দখল, গাছ কর্তন, আগুন দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি ও ব্যাক্তি মালিকানা রাস্তা দখলের অভিযোগ এনে এক ভুক্তভোগী সিলেট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ৭ই এপ্রিল মঙ্গলবার উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের মৃত জহির মিয়ার ছেলে মোঃ ফারুক আহমদ (৫০) নিজ গ্রামের ইলিয়াস মিয়ার পুত্র রোমান মিয়া (২৩) এর বিরুদ্ধে লিখিত এই অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযোগকারী ফারুক আহমদ অভিযোগের অনুলিপি বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে মোঃ ফারুক আহমদ উল্লেখ করেন, 

আইন অমান্যকারী ধান্দাবাজ প্রকৃতির উদিয়মান ধাপটওয়ালা প্রকৃতির রোমান মিয়া এলাকার কিছু সংখ্যক সুবিধাবাদী মহল ও ধর্মীয় আবেগ সৃষ্টি করে একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠানের নামে বেশ কিছু প্রবাসীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় পূর্বক মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মাণ করছেন। যে প্রতিষ্ঠানটি ফারুক আহমদ এর বসতবাড়ীর সন্নিকটে। মাদ্রাসা ও মসজিদের নিজস্ব কোনো রাস্তা নেই। সরকারের অনুমতি ছাড়াই খাস জমি দখল করে রাস্তা তৈরি ও গাছপালা কেটে ফেলেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, এলাকা ও গ্রামবাসী-কে না জানিয়ে আমার বাড়ীর উঠানের সামন লাগুয়া ভূমিতে সরকারী মালিকানাধীন ভূমি ও আমার বাড়ীর কথিত রাস্তা, সরকারী গাছপালা কর্তন পূর্বক সরকারী ভুমি দখল ও একখন্ড ভূমিতে মাঠি ভরাট করে টিনসেটের ঘর বানিয়েছেন। মাদ্রাসা ও আয়েশা মসজিদ নামে একটি মসজিদ এবং একটি এতিমখানা নির্মাণ করতে আমার বাড়ীর রাস্তার সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার গণ্যমান্য মুরব্বীয়ান মিলে রোমন মিয়া ও তাহার পিতা ইলিয়াস মিয়াকে ডেকে এই অবস্থা নিরসনের নিদের্শ দেন।মসজিদ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে হলে শিক্ষা দীক্ষা ও চলাফেরার উপযুক্ত পরিবেশ স্থান খোঁজার পরামর্শ ও ভূমিদান সহ আর্থিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তারা। এলাকাবাসীয় এই নিদের্শনা বা পরামর্শ অগ্রাহ্য করে স্থানীয় কিছু সুবিধাবাদী মহলকে সাথে নিয়ে আমাকে মামলায় জড়ানো এবং ইসলাম বিদ্বেষী হিসাবে আখ্যায়িত করার হুমকি ধামকি এমনকি মব সৃষ্টি করে, হয়রানি, মামলা, বাড়ীঘর পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। 

গত রমজান মাসে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের নামে সকাল ৯ ঘটিকা হইতে বিরামহীন ভাবে, ইফতারের বিরতী ছাড়া তারাবীহ নামাজ, বয়স্ক শিক্ষা সহ ফজরের জামাতের পূর্ব পর্যন্ত মাইক দ্বারা উচ্চ স্বরে তালিম, গজল, কেরাত, নামাজের জামাত, আকামত, হিফজ সহ শিক্ষাদান করলে এলাকার অসুস্থ রোগী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার ব্যাঘাত সহ শব্দ দূষণ সৃষ্টি করেন। ঘরের করাপসিপল গেইটের সামনে একটি খোলা টয়লেট বানিয়ে পরিবেশ দূষিত করছেন। প্রতিবেশী হিসাবে ধর্মীয় কাজ, ধর্মীয় তরিকায় করার আহবান জানালে রোমন তার সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে আমার (ফারুক আহমদ এর) বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে একটি বাঁশঝাড় জ্বলে যায়। 

অভিযোগ গুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

অপর দিকে বিগত ১৮ ফেব্রুয়ারী মাদ্রাসার মোহতামিম পরিচয়ে রোমান মিয়া এলাকার কিছু মানুষের স্বাক্ষর সহ মাদ্রাসা মসজিদের রাস্তার অনুমতি চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একখানা দরখাস্ত আবেদন করেন। দরখাস্তটি ১৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৫ নং স্মারকে রিসিভ করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড ভুমি) দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারী এসিল্যান্ড পশ্চিম প্রয়াগমহল (খাজাঞ্চি) তহশিল অফিসে রিপোর্টের জন্য পাঠান। এব্যাপারে বিশ্বনাথের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) লুৎফর রহমান জানান, মাদ্রাসা ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের রাস্তা সংক্রান্ত একটি আবেদন পেয়েছি। রিপোর্টের জন্য স্থানীয় তহশিলদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখনোও রিপোর্ট পাইনি। রাস্তার অনুমতি এখনও দেওয়া হয় নাই।

অভিযুক্ত রোমান মিয়া জানান, আমার বিরুদ্ধে ফারুক আহমদ এর আনিত অভিযোগগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন বানোয়াট। সরকারি কোন ভুমি দখল, গাছ কর্তন, আগুন জ্বালানো কিংবা অভিযোগকারীকে আমি কোনো ভয়ভীতি দেখাইনি।