বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : জনপ্রতিনিধি হয়েও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অংলকারী ইউনিয়নের বড় খুরমা গ্রামের মৃত শুয়ারিছ আলীর পুত্র ছগির আলী দীর্ঘ এক যুগ ধরে নির্বিগ্নে অবৈধভাবে এসকেবেটর দিয়ে অভাধে ফসলী জমি নস্ট করে মাটির ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তিনি অলংকারী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

সরেজমিন উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের খাদুয়ার হাওরে গেলে দেখা যায়, প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে দিনরাত সমানতালে ভেকু দিয়ে কাটা হচ্ছে আবাদি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল)। কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ফসলি জমিকে পুকুরে পরিণত করছেন।

ট্রাক থেকে ছিটকে পড়া মাটিতে পুরো এলাকা ধুলোয় ধুসরিত হয়ে পড়ছে, যা শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাকা রাস্তা ওপর ভেজা মাটি বা কাদা জমে, তখন রাস্তা অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যায়। এ কাদা সবচেয়ে বেশি বিপদজন দুই চাকার যানবাহনের জন্য। ব্রেক ধরলেই চাকা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার বা উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সরু গ্রামীণ রাস্তাগুলো দিয়ে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ওজনের ট্রাক চলাচল করায় কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সড়কগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।   

বেপরোয়া গতির ট্রাকের কারণে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী ও পথচারীরা সবসময় দূর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন। মাটি বহনের জন্য ব্যবহৃত ভারী ড্রাম ট্রাকের অবাধ চলাচলে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ।

মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে ছগির আলী এ প্রতিবেদককে জানান, দীর্ঘ ১২/১৩ বছর ধরে মাটির ব্যবসা করে আসছি, কোন সমস্যা হয়নি। বর্তমান ইউনুস সরকার যদি আমাদেরকে সুযোগ করে দেয় তাহলে ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে হলেও মাটি কাটার ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাই।

এব্যাপারে উপজেলা (ভূমি) কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, অভিযান টের পেয়ে মাটি কাটায় জড়িতরা পালিয়ে যায়। কৃষি জমির উর্বর মাটি কাটা দন্ডনীয় অপরাধ। কৃষি জমির মাটি কাটায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।