বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিখোঁজ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা উত্তাল হয়ে উঠেছে। রোববার (১৭ আগস্ট) দুপুরে তীব্র রোদ উপেক্ষা করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তাজপুর ও কদমতলায় এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভার আয়োজন করে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।


দুপুর থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে শত শত নেতাকর্মী পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলে করে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তাজপুরের কদমতলায় সমবেত হতে থাকেন। বিকাল ৪টার মধ্যে মহাসড়কটি সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ‘ইলিয়াস ভাই, ইলিয়াস ভাইকে ফেরত চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৭২টি ওয়ার্ড থেকে প্রায় ২৪০টি পিকআপ ভ্যানে করে নেতাকর্মীদের মিছিলে যোগ দিতে দেখা যায়।


বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এ সময় নেতাকর্মীরা সিলেট-২ আসনে বিএনপির আগামী দিনের সংসদ সদস্য হিসেবে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদির লুনার নামেও স্লোগান দেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কে পুলিশ মোতায়েন ছিল।


ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ময়নুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা।


বক্তারা বলেন, এম ইলিয়াস আলী শুধু সিলেটের নন, সারাদেশের একজন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে গুম করা হয়েছে। ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়া একটি স্বাধীন দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।


তারা অবিলম্বে এম ইলিয়াস আলীকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান। নেতারা আরও বলেন, ইলিয়াস আলী ছিলেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক সাহসী কণ্ঠস্বর এবং তার অনুপস্থিতি কেবল বিএনপির জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।


উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী। পরে তার গাড়িটি মহাখালী থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে বিএনপি অভিযোগ করে আসছে যে, তৎকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে তাকে "গুম" করেছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পরেও তার বা তার চালকের কোনো সন্ধান মেলেনি, যা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।


আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক বছর আগে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হলেও বর্তমান সরকারও ইলিয়াস আলীর কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। এর প্রতিবাদে সম্প্রতি বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।


উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ মিছবাহ এবং সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিন উভয়েই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথে আমাদের আন্দোলন চলবে।