বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় এ অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকদের মতে, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ তৈরির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকার একে প্রশাসনিক সমন্বয় ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও, অনেকে এটিকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় প্রভাব বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার এরশাদ আমলে চালু হওয়া উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করে। পরে বিভিন্ন সময়ে আইন ও অধ্যাদেশের মাধ্যমে আবারও এই কাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হয়। তবে নির্বাচন, ক্ষমতা বণ্টন ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে।
বর্তমানে উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন বরাদ্দ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রভাব বেশি থাকায় চেয়ারম্যানদের ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা পরিষদ আইন ঘেঁটে দেখা গেছে, তাদের মূল কাজ ১৭টি, সঙ্গে রয়েছে ৩৮ রকমের দায়িত্ব। এতে চেয়ারম্যানের ১৩টি, ভাইস চেয়ারম্যানের ১২টি আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ১৩টি দায়িত্ব বণ্টন করা আছে। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখা, যোগাযোগ ও ভৌত অবকাঠামো, কৃষি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, যুব ও ক্রীড়া, সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সংস্কৃতির উন্নয়ন। এসব কাজে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থানের ক্ষমতা উপজেলা পরিষদের হাতে না থাকায় তারা কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যেকোনো তথ্যমন্ত্রী জানাবেন। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার দ্রুতই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করবে। উপজেলা পরিষদ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, উপজেলা পরিষদকে শক্তিশালী করার জন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা আরও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় স্থানীয় সরকার কাঠামো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মেজবাহ-উল- আজম সওদাগর বলেন, উপজেলা পরিষদ হলো জেলা ও ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্তর। এখানে কার্যকর জনপ্রতিনিধি না থাকলে উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দেয়। বিএনপি যদি এই স্তরে অনুপস্থিত থাকে, তা হলে তাদের তৃণমূল রাজনৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


0 Comments