সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার সড়কের বাজার উচ্চ বিদ্যালয় (Saraker Bazar High School) থেকে মাধ্যমিক (SSC) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আব্দুর রাহমান লাহী বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে এমন সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন প্রতিভাবান তরুণ উদ্ভাবক হিসেবে,
তিনি ৩-নম্বর দিঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়ন এর জয়ফৌদ গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র।
গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ব্যাংককের Al Meroz Hotel-এ অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এক হাজারেরও বেশি তরুণ উদ্ভাবক, গবেষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। বৈশ্বিক এই আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন আব্দুর রহমান লাহী।
তিনি Robotics & Drone ক্যাটেগরিতে ‘Lahi Robotics & Intelligence System’ দলের Team Leader হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের উদ্ভাবিত রোবোটিক্স ও ড্রোনভিত্তিক সিস্টেমটি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, ব্যতিক্রমী ধারণা ও মানসম্মত উপস্থাপনার কারণে আন্তর্জাতিক বিচারকমণ্ডলীর প্রশংসা কুড়ায়। এর স্বীকৃতি হিসেবে দলটি একদিকে ব্রোঞ্জ মেডেল অর্জন করে, অন্যদিকে পায় বিশেষ Panel’s Choice Award।
এই আন্তর্জাতিক সফরের অংশ হিসেবে আব্দুর রাহমান লাহী ও তার দল বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্যাংকক-এ বাংলাদেশের সম্মানিত রাষ্ট্রদূত ফয়েজ মুর্শিদ কাজী-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান। এ সময় রাষ্ট্রদূত তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ সম্পর্কে আগ্রহের সঙ্গে অবগত হন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য তাদের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও উন্নত উদ্ভাবনের জন্য দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক রাউন্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে Young Scientist and Innovators Society (BYSIS)-এর কর্তৃপক্ষ সার্বিক দিকনির্দেশনা ও প্রস্তুতি সহায়তা প্রদান করে, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে দক্ষতার সঙ্গে অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার দাতুক ওয়ান জাইদি ওয়ান আব্দুল্লাহ, Malaysia Young Scientists Organization (MYSO)-এর সভাপতি ড. রাজমি বিন আব্দুর রাজ্জাক সহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা বিজ্ঞানী, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদরা।
অল্প বয়সেই এমন আন্তর্জাতিক সাফল্যের মাধ্যমে আব্দুর রাহমান লাহী প্রমাণ করেছেন—মেধা, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে সিলেট তথা বাংলাদেশের তরুণরাও বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। তার এই অর্জন নিঃসন্দেহে সিলেটবাসীর জন্য গর্বের এবং আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


0 Comments