নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রশাসনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবাধে চলছে কৃষিজমির মাটি কাটার ‘মহা উৎসব’।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি জমির মাটি বিক্রির হিড়িক পড়লেও রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়ছে।
উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের করই আইল হাওরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গত ৪-৫ দিন ধরে দিনরাত সমানতালে ভেকু (এক্সাভেটর) দিয়ে কাটা হচ্ছে আবাদি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল)। বড় বড় ট্রাকে করে এই মাটি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায় ও ভরাট কাজে। এর নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন কাদিপুর গ্রামের রফিক আলীর ছেলে রশিদ আলী। স্থানীয়দের অভিযোগ, রশিদ আলী কৃষকদের মোটা অংকের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ফসলি জমিকে বড় বড় পুকুরে পরিণত করছেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উপরিভাগের উর্বর অংশ কেটে নিলে ওই জমিতে কয়েক বছর আর ফলন হয় না। অন্যদিকে, ভারী ট্রাকে করে মাটি পরিবহনের ফলে গ্রামীণ পাকা রাস্তাগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মাটি কাটার বিষয়ে প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই। আমরা বাধা দিলে প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে মুখ খুলতে পারি না।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এভাবে ফসলি জমি ধ্বংস করা হলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ না করলে উপজেলায় আবাদি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


0 Comments