সিলেটের বিশ্বনাথে গরুচোর সন্দেহে শিশুর উপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ ৫জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ভোরে এই মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের মজনপুর গ্রামের নির্যাতিত শিশু অলিউর রহমান (১৪) মা জলি বেগম (৩৫)। মামলা নং-(১২)। মামলায় দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কালিজুরি মটুককোনা গ্রামের মৃত আব্দুল আহাদের ছেলে লায়েক আহমদ (৩৫) মেম্বারসহ ৫জনকে আসামী করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে দ্বিতীয় আসামী করা হয়। মামলায় বাকি আসামীরা হচ্ছেন একই গ্রামের রুস্তুম আলীর ছেলে নানু মিয়া (৩৫), সদরপুর মটুককোনা গ্রামের কাহানুর মিয়ার ছেলে লোকমান মিয়া (৪৫), কালিজুরি মটুককোনা গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে সুমন আহমদ (৩২) ও কমসির আলী ছেলে আব্দুল বারিক (২৯)।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, যে তার নির্যাতীত শিশু ছেলে অলিউর রহমান বিশ্বনাথ বাজারে একটি দোকানে চাকুরি করে। ঘটনার দিন (১৬ মার্চ) বিকেলে দোকানের ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব শক্রতার জেরে আসামীরা রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লায়েক আহমদের বাড়িতে। সেখানে নিয়ে গ্রিলের সাথে বেঁধে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর করা হয়। আমরা সংবাদ পেয়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লায়েক আহমদের বাড়িতে গেলে আসামীরা জানায় তার ছেলেকে গরুচোর সন্দেহে আটক করা হয়েছে। পরে আসামীরা ডেগার দিয়ে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক অলিখিত একটি সাদা কাগজে আমার ও আমার স্বামী রোহেল মিয়া এবং আমার ভাই কামরুল আলীর স্বাক্ষর নিয়ে জখমি অবস্থায় আমার ছেলেকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে রাতে নির্যাতীত শিশু অলিউর রহমানের অবস্থার অবনতি দেখা দিলে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এটি একটি অমানবিক ঘটনা। এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।